৩১ আগস্ট ২০২৬ - ২২:৪৬
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ও ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা -ঢাকা।

ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও বাংলাদেশ ইমামিয়া ওলামা সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠিত হয়।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও বাংলাদেশ ইমামিয়া ওলামা সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ও ইসলামি ঐক্য সপ্তাহসভার আয়োজন করা হয়।

‘মহানবীর আগমন: হেদায়েত ও ঐক্যের আলোকবর্তিকা’ শীর্ষক আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রাহিমি জাহানাবাদী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আল-কুদস কমিটি বাংলাদেশের সভাপতি ড. শাহ কাওসার মুস্তফা আবুল উলায়ী ও ঢাকাস্থ ইরানের আল মোস্তফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ।

এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজধানীর গাওসুল আজম জামে মসজিদের খতিব ও শাইখুল হাদিস মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক।

নাত পরিবেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব মেহেদী হাসান। খুলনা ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল ও বাংলাদেশ ইমামিয়া ওলামা সোসাইটির সভাপতি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাইয়্যেদ ইব্রাহিম খলিল রাজাভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর ড. মাহদি মৌলায়ী আরানি।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এমন এক সময়ে পৃথিবীতে আগমন করেন, যখন আরব সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচার মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। তিনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার পাশাপাশি মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মহান আল্লাহ তায়ালা মক্কার কুরাইশ বংশে মানবতার মুক্তির দূত হিসেবে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রেরণ করেন। তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীর মানুষকে মুক্তির দিশা দেখিয়েছেন এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। মহানবী (সা.) সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ। পবিত্র কুরআনে রাসুলকে (সা.) ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সততা, ন্যায়পরায়ণতা, চারিত্রিক মাধুর্য ও মানবিক গুণাবলি তৎকালীন সমাজের মানুষকে আকৃষ্ট করেছিল। তার আদর্শ ও নেতৃত্বে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

বক্তারা আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আদর্শ। তার জীবন ও শিক্ষা অনুসরণ করলে মুসলমানদের মধ্যে বিদ্যমান বিভেদ ও দ্বন্দ্ব অনেকাংশে কমানো সম্ভব। মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার শিক্ষা মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে পাওয়া যায়।

তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষাকে অনুসরণ করে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য জোরদার করতে হবে। তার আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই মুসলিম উম্মাহ শান্তি, ঐক্য ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha